২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াইয়ে জায়গা করে নিতে না পারলেও টুর্নামেন্টটি জয় দিয়ে শেষ করার সুযোগ পাচ্ছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শনিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে ২-১ ব্যবধানে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যায় ইংল্যান্ডের। অন্যদিকে স্পেনের বিপক্ষে ২-০ গোলে পরাজিত হয়ে শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে পড়ে ফ্রান্স। ফলে এবার দুই দলই তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে বিশ্বকাপ অভিযান ইতিবাচকভাবে শেষ করতে চাইবে।
ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচটি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার একটি বড় সুযোগ। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়ে থেকেও শেষ দিকে রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে ম্যাচ হাতছাড়া করতে হয় থ্রি লায়ন্সদের। সেই হতাশা কাটিয়ে শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে সমর্থকদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে চাইবেন কোচ থমাস টুখেল।
অন্যদিকে ফ্রান্সের জন্য স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ছিল হতাশার। দিদিয়ের দেশমের দল পুরো ম্যাচেই প্রতিপক্ষের উচ্চ প্রেসিং ও বল দখলের কৌশলের সামনে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পায়নি। কিলিয়ান এমবাপ্পেসহ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা কার্যকর সুযোগও খুব কমই তৈরি করতে পেরেছিলেন।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হওয়ায় দুই দলেই একাধিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে নিয়মিত একাদশের বাইরে থাকা কয়েকজন ফুটবলার সুযোগ পেতে পারেন। কারণ সেমিফাইনালের পর বিশ্রামের সময়ও তুলনামূলক কম পেয়েছে দলটি।
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমও একাধিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে অন্তত কিছু সময় মাঠে দেখা যেতে পারে। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে তিনি এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
সম্ভাব্যভাবে ইংল্যান্ডের আক্রমণে নেতৃত্ব দিতে পারেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। মাঝমাঠে থাকবেন জুড বেলিংহ্যাম ও ডেকলান রাইস। অন্যদিকে ফ্রান্সের আক্রমণে এমবাপ্পের পাশাপাশি উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে কিংবা ব্র্যাডলি বারকোলার মতো ফুটবলারদের দেখা যেতে পারে।
ফিফা বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেক দলই আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখলেও এর গুরুত্ব কম নয়। টুর্নামেন্ট শেষ করার আগে জয়, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য নতুন খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করার সুযোগ থাকে এই ম্যাচে। একই সঙ্গে দুই দলের সমর্থকদের জন্যও এটি একটি মর্যাদার লড়াই।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবসময়ই আকর্ষণীয়। দুই দলই একাধিকবার বড় আসরে মুখোমুখি হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ম্যাচ নির্ধারিত হয়েছে ছোট ছোট মুহূর্তের ব্যবধানে। এবারও সমান শক্তির দুই দলের লড়াইয়ে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করবে কোন দল—সেই উত্তর মিলবে মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে।











