ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল এমন একটি মঞ্চ, যেখানে শুধু দুই দলের ফুটবলারদের নয়, রেফারির প্রতিটি সিদ্ধান্তও ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। কোটি কোটি দর্শকের চোখ যখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ের দিকে নিবদ্ধ থাকে, তখন সেই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া একজন রেফারির জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি বিশাল দায়িত্বেরও। সেই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বই এবার পেয়েছেন স্লোভেনিয়ার অভিজ্ঞ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। আগামী রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। ফিফা স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফাইনালের ম্যাচ কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ করার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হয়। ঘোষণার পর থেকেই বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব এমন একজন রেফারির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যিনি গত দেড় দশকে ধারাবাহিকভাবে নিজের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থা অর্জন করেছেন।
ফিফার প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ভিনচিচের সঙ্গে সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তাঁরই স্বদেশি তোমাজ ক্লানচনিক এবং আন্দ্রাজ কোভাচিচ। চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন জর্ডানের আধহাম মাখাদমেহ। রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে থাকবেন কাতারের মোহাম্মদ আলকালাফ। ভিডিও সহকারী রেফারি দলের নেতৃত্ব দেবেন স্পেনের আলেহান্দ্রো হার্নান্দেস হার্নান্দেস। তাঁর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন জার্মানির বাস্তিয়ান ডাংকার্ট, কলম্বিয়ার নিকোলাস গায়ো এবং কাতারের খামিস আল মারি। আধুনিক ফুটবলে ভিডিও সহকারী রেফারির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে মাঠে ভিনচিচের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ভিডিও পর্যবেক্ষণ দলের সিদ্ধান্তও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এই নিয়োগের মাধ্যমে স্লাভকো ভিনচিচ শুধু নিজের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখরেই পৌঁছাননি, বরং স্লোভেনিয়ার ফুটবল ইতিহাসেও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। তিনি প্রথম স্লোভেনিয়ান রেফারি হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে খুব অল্পসংখ্যক রেফারিই এই সম্মান অর্জন করতে পেরেছেন। সেই তালিকায় নিজের নাম যুক্ত হওয়ায় ভিনচিচ স্বাভাবিকভাবেই আবেগাপ্লুত। ফিফার প্রধান রেফারি কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা তাঁকে যখন এই সুখবরটি জানান, তখন কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি। পরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, একজন রেফারি ক্যারিয়ার শুরু করার সময় যে স্বপ্নটি দেখেন, সেটিই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং পুরো স্লোভেনিয়ার জন্য গর্বের একটি মুহূর্ত।
মারিবোর শহরে জন্ম নেওয়া ভিনচিচের রেফারিং ক্যারিয়ার দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং অভিজ্ঞতার ফল। দুই হাজার দশ সালে তিনি আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। এরপর ধীরে ধীরে ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলোতে দায়িত্ব পালন করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। তিনি কখনো বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়ার জন্য পরিচিত নন, বরং নিয়মের কঠোর প্রয়োগ, ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। মাঠে তাঁর উপস্থিতি সাধারণত শান্ত, আত্মবিশ্বাসী এবং দৃঢ়। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, একজন রেফারির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ম্যাচকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা, কিন্তু নিজেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না নিয়ে আসা। ভিনচিচ সেই কাজটি ধারাবাহিকভাবে করতে সক্ষম হয়েছেন বলেই ফিফা তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
ক্লাব ফুটবলেও তাঁর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দুই হাজার চব্বিশ সালে তিনি ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনালে দায়িত্ব পালন করেন। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ এবং জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। উচ্চচাপের সেই ম্যাচ সফলভাবে পরিচালনা করার পর থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় দায়িত্বও তাঁর কাঁধে আসতে পারে। এর আগেও তিনি ইউরোপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনাল পরিচালনা করেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাঁকে অন্য অনেক রেফারির তুলনায় এগিয়ে রেখেছে।
শুধু ক্লাব ফুটবল নয়, জাতীয় দলগুলোর প্রতিযোগিতাতেও তাঁর অভিজ্ঞতা ঈর্ষণীয়। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, নেশনস লিগ, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং ইউরোপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টেই তিনি কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা, ভিডিও সহকারী রেফারির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা এবং ম্যাচের গতি অক্ষুণ্ন রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়া—এসব ক্ষেত্রেই তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এ কারণেই তাঁকে ইউরোপের অন্যতম সেরা সক্রিয় রেফারি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিশ্বকাপে তাঁর যাত্রা শুরু হয় দুই হাজার বাইশ সালের কাতার বিশ্বকাপে। সেই আসরে তিনি দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেন। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল আর্জেন্টিনা ও সৌদি আরবের মধ্যকার ম্যাচটি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে সেটিই ছিল আর্জেন্টিনার একমাত্র পরাজয়। ম্যাচের শুরুতেই লিওনেল মেসির পেনাল্টির মাধ্যমে এগিয়ে গেলেও পরে সৌদি আরব অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে দুই এক গোলে জয় তুলে নেয়। সেই ম্যাচে ভিনচিচের পরিচালনা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে তেমন কোনো বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। বরং আধা-স্বয়ংক্রিয় অফসাইড প্রযুক্তির কয়েকটি সিদ্ধান্ত বেশি আলোচিত হয়েছিল। আর্জেন্টিনার একাধিক গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। পরে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা সামনে এলেও সেটি রেফারির ব্যক্তিগত ভুল হিসেবে বিবেচিত হয়নি।
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের অনেকেই সেই ম্যাচকে এখনও স্মরণ করেন, কারণ সেটি ছিল দলটির টানা ছত্রিশ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার দিন। তবে পরবর্তী সময়ে একই দল ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয়। তাই অনেকে মনে করেন, সেই পরাজয়ই আর্জেন্টিনাকে আরও সতর্ক এবং শক্তিশালী করে তুলেছিল। এবার একই রেফারি বিশ্বকাপ ফাইনালে দায়িত্ব পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি শুধুই পরিসংখ্যান, যার সঙ্গে বর্তমান ম্যাচের কোনো সম্পর্ক নেই।
দুই হাজার ছাব্বিশ সালের বিশ্বকাপে ভিনচিচ গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ও মরক্কোর ম্যাচ, জর্ডান ও আলজেরিয়ার ম্যাচ এবং নকআউট পর্বে মেক্সিকো ও ইকুয়েডরের ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। ফিফার রেফারি মূল্যায়ন প্যানেল ম্যাচ পরিচালনার সময় সিদ্ধান্তের নির্ভুলতা, খেলার গতি বজায় রাখা, শারীরিক সক্ষমতা, খেলোয়াড়দের সঙ্গে আচরণ এবং ভিডিও সহকারী রেফারির সঙ্গে সমন্বয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে থাকে। সেই মূল্যায়নেই তিনি সর্বোচ্চ আস্থা অর্জন করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই ফাইনালের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
স্পেনের সঙ্গে ভিনচিচের সম্পর্কও বেশ ইতিবাচক। গত কয়েক বছরে তিনি স্পেনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ইতালির বিপক্ষে স্পেনের জয়, পরে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই ম্যাচেই তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল দুর্দান্ত গোল করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন। স্পেনের সমর্থকদের একটি অংশ মনে করেন, ভিনচিচের উপস্থিতিতে তাঁদের দল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পারে। যদিও পেশাদার ফুটবলে রেফারির সঙ্গে কোনো দলের ভাগ্যের সম্পর্ক খুঁজে দেখাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় না, তারপরও এমন পরিসংখ্যান বড় ম্যাচের আগে আলোচনার জন্ম দেয়।
আর্জেন্টিনা এবং স্পেন—দুই দলের ফুটবল দর্শন একেবারেই ভিন্ন হলেও বিশ্বকাপ ফাইনালে তাদের লক্ষ্য একটিই, শিরোপা জিতে ইতিহাসের অংশ হয়ে যাওয়া। এই ম্যাচে মাঠের বাইরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন হবেন স্লাভকো ভিনচিচ। কারণ বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ম্যাচে একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত, একটি লাল কার্ড, একটি অফসাইড কিংবা একটি বিতর্কিত ফাউল পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। ফুটবল ইতিহাসে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে, যেখানে রেফারির একটি সিদ্ধান্ত বহু বছর ধরে আলোচনার বিষয় হয়ে থেকেছে। সেই কারণেই ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের জন্য রেফারি নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। প্রতিটি ম্যাচ শেষে রেফারিদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা হয়। সিদ্ধান্তের নির্ভুলতা, ম্যাচ পরিচালনার মান, খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণে রাখার দক্ষতা, সহকারী রেফারি ও ভিডিও সহকারী রেফারির সঙ্গে সমন্বয়, শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তা—সবকিছু বিবেচনা করেই ফাইনালের জন্য একজন রেফারিকে বেছে নেওয়া হয়। সেই কঠিন মূল্যায়নের প্রতিটি ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করেই স্লাভকো ভিনচিচ এবার বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন।
বিশ্ব ফুটবলে স্লাভকো ভিনচিচের পরিচিতি শুধু একজন অভিজ্ঞ রেফারি হিসেবে নয়, বরং একজন দৃঢ়চেতা এবং আত্মবিশ্বাসী ম্যাচ কর্মকর্তা হিসেবেও। মাঠে তিনি সাধারণত খুব কম কথা বলেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় মুহূর্তে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেন না। খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের ধরনও অন্যদের তুলনায় কিছুটা আলাদা। তিনি অযথা উত্তেজনা তৈরি না করে শান্তভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। ইউরোপের বিভিন্ন বড় প্রতিযোগিতায় তাঁর এই আচরণ বারবার প্রশংসিত হয়েছে। অনেক সাবেক ফুটবলার এবং রেফারি বিশ্লেষকের মতে, একজন সফল রেফারির সবচেয়ে বড় গুণ হলো খেলাকে নিজের উপস্থিতির কারণে নয়, বরং নিজের নিয়ন্ত্রণের কারণে সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়া। ভিনচিচ সেই পরীক্ষায় বহুবার সফল হয়েছেন।
দুই হাজার চব্বিশ সালে ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনাল পরিচালনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়। সেই ম্যাচে অসংখ্য তারকাখচিত দুই দলের লড়াই সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এরও আগে ইউরোপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনাল পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। ফলে বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার ঘাটতি তাঁর নেই বলেই মনে করেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
তবে তাঁর ক্যারিয়ার সব সময় বিতর্কমুক্ত ছিল না। কয়েক বছর আগে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় একটি অপরাধ তদন্তের সময় তাঁকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছিল। পরে তদন্তে প্রমাণিত হয় যে তিনি ওই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না এবং তাঁকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। সেই ঘটনার পর তিনি আরও বেশি সতর্কতার সঙ্গে নিজের পেশাগত জীবন পরিচালনা করেন। পরবর্তী সময়ে উয়েফা এবং ফিফা উভয় সংস্থাই তাঁর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে এবং একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দায়িত্ব দেয়। অনেকেই মনে করেন, সেই কঠিন সময় পার করে আসাই তাঁকে মানসিকভাবে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা এবং স্পেন—দুই দলের সমর্থকদের মধ্যেই রেফারি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের একাংশ এখনও দুই হাজার বাইশ সালের সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচটির কথা মনে করছেন। যদিও ওই ম্যাচে ভিনচিচের কোনো বড় ভুল সিদ্ধান্ত প্রমাণিত হয়নি, তবুও পরাজয়ের স্মৃতি অনেকের মনে এখনও রয়ে গেছে। অন্যদিকে স্পেনের সমর্থকদের একটি অংশ ভিনচিচকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। কারণ তাঁর পরিচালনায় স্পেন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচে জয় পেয়েছে। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিসংখ্যান মানসিক আলোচনার বিষয় হতে পারে, কিন্তু বাস্তব ম্যাচে তার কোনো প্রভাব থাকার কথা নয়। একজন আন্তর্জাতিক রেফারির প্রধান পরিচয়ই হলো নিরপেক্ষতা।
ফিফার রেফারি বিভাগের প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা বরাবরই বলে আসছেন, রেফারিদের সবচেয়ে বড় সাফল্য তখনই, যখন ম্যাচ শেষে দর্শকরা তাঁদের নিয়ে নয়, ফুটবল নিয়েই আলোচনা করেন। সেই দর্শন অনুসরণ করেই ভিনচিচ নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তিনি কখনও অযথা আলোচনায় আসতে চান না। বরং চেষ্টা করেন নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলার স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে। আধুনিক ফুটবলে যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত অসংখ্য ক্যামেরা, প্রযুক্তি এবং ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে যাচাই করা হয়, সেখানে একজন রেফারির ওপর চাপ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। সেই চাপ সামলানোর সামর্থ্য আছে বলেই তাঁকে ফাইনালের মতো ম্যাচের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
এবারের ফাইনালে ভিডিও সহকারী রেফারি ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মাঠে ভিনচিচের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও সহকারী রেফারি দল বিভিন্ন দিক থেকে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করবে। গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড কিংবা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ চারটি ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ফলে ম্যাচ পরিচালনায় নির্ভুলতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মাঠের প্রধান রেফারির হাতেই থাকবে।
বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর স্লাভকো ভিনচিচ বলেন, এই মুহূর্তটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। তিনি জানান, সংবাদটি শোনার পর প্রথমে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। পরে যখন বিষয়টি বাস্তব বলে বিশ্বাস করতে পারেন, তখন নিজের পরিবার এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। তিনি বলেন, একজন রেফারির পেছনে শুধু একজন মানুষ নন, পুরো একটি দল কাজ করে। সহকারী রেফারি, ভিডিও সহকারী রেফারি, প্রশিক্ষক, শারীরিক সক্ষমতা উন্নয়নকারী এবং পরিবার—সবাই মিলে একজন রেফারিকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসেন। তাই এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো দলের।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ভিনচিচ এবং তাঁর দলকে বিশেষ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ম্যাচের আগে তাঁরা নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা, ভিডিও বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য ম্যাচ পরিস্থিতি নিয়ে অনুশীলন করেছেন। ফিফা প্রতিটি ফাইনালের আগে রেফারিদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতির ব্যবস্থা করে, যাতে ম্যাচ চলাকালে কোনো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। খেলোয়াড়দের মতো রেফারিদেরও ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। কারণ নব্বই মিনিট, অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকার—পুরো সময়জুড়ে মাঠের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কাছাকাছি অবস্থান করা একজন রেফারির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে খুব কম রেফারিই বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। এই তালিকায় নাম ওঠা মানেই একজন রেফারির ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। স্লাভকো ভিনচিচ এখন সেই বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ তালিকার সদস্য হতে যাচ্ছেন। স্লোভেনিয়ার মতো ছোট একটি দেশের জন্যও এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে ইতোমধ্যেই এই খবরকে বিশেষ গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্লোভেনিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। অনেক সাবেক খেলোয়াড়ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই অর্জনের প্রশংসা করেছেন।
আগামী রোববার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন আর্জেন্টিনা ও স্পেন মাঠে নামবে, তখন কোটি কোটি দর্শকের চোখ থাকবে শুধু লিওনেল মেসি, লামিনে ইয়ামাল কিংবা দুই দলের অন্য তারকাদের ওপর নয়, ম্যাচ পরিচালনায় থাকা স্লাভকো ভিনচিচের প্রতিটি সিদ্ধান্তের দিকেও। কারণ বিশ্বকাপ ফাইনালে একটি সঠিক কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে। সেই বিশাল দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই স্লোভেনিয়ার এই অভিজ্ঞ রেফারি মাঠে নামবেন। তাঁর লক্ষ্য থাকবে ম্যাচটিকে বিতর্কমুক্ত রেখে ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিচালনা করা, যাতে শেষ পর্যন্ত জয়ী দলকে নিয়েই আলোচনা হয়, রেফারিকে নিয়ে নয়।
বিশ্বকাপের ফাইনালকে শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবে দেখা হয় না, বরং এটি একটি বৈশ্বিক আয়োজন, যেখানে খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি এবং আয়োজক—সবার ওপরই থাকে অসাধারণ চাপ। সেই চাপের মধ্যেও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ম্যাচ পরিচালনা করাই একজন রেফারির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। স্লাভকো ভিনচিচের ক্ষেত্রে ফিফা মনে করছে, এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং পেশাদারিত্ব তাঁর রয়েছে। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন করার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছেন, কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে সক্রিয় রেফারিদের মধ্যে এমন খুব কমজনই আছেন, যাঁরা একই সঙ্গে খেলার গতি বজায় রাখা, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। ভিনচিচ তাঁদেরই একজন।
বিশ্বকাপ ফাইনালে দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নয়, পুরো টুর্নামেন্টে একজন রেফারির ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি ম্যাচ শেষে ফিফার রেফারি মূল্যায়ন দল ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিটি সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে। কোন পরিস্থিতিতে ফাউল দেওয়া হয়েছে, কোথায় খেলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে, হলুদ কিংবা লাল কার্ড প্রদর্শনের যৌক্তিকতা কতটা ছিল, খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন কেমন ছিল এবং ভিডিও সহকারী রেফারির সঙ্গে সমন্বয় কতটা কার্যকর ছিল—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়। সেই মূল্যায়নেই ভিনচিচ সবচেয়ে বেশি আস্থা অর্জন করেছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ফাইনালের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ফুটবল বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক বলেই মনে করছেন।
এই ম্যাচটি ভিনচিচের জন্য যেমন ব্যক্তিগতভাবে একটি মাইলফলক, তেমনি স্লোভেনিয়ার ফুটবলের জন্যও একটি গর্বের মুহূর্ত। ছোট একটি দেশ হয়েও স্লোভেনিয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মানসম্পন্ন রেফারি তৈরি করে আসছে। তবে এর আগে দেশটির কোনো রেফারি বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনার সুযোগ পাননি। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন ভিনচিচ। তাঁর এই অর্জন ভবিষ্যতে স্লোভেনিয়ার তরুণ রেফারিদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন দেশটির ফুটবল কর্মকর্তারা। একজন রেফারির জন্য বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনা ঠিক যেমন একজন ফুটবলারের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার সমান মর্যাদার বিষয়।
ফুটবল ইতিহাসে অনেক বিশ্বকাপ ফাইনাল রেফারিদের সিদ্ধান্তের কারণেও স্মরণীয় হয়ে আছে। কখনও বিতর্কিত পেনাল্টি, কখনও লাল কার্ড, আবার কখনও গোলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা হয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন সেই ধরনের ভুলের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে এসেছে। ভিডিও সহকারী রেফারি, আধা-স্বয়ংক্রিয় অফসাইড প্রযুক্তি, গোললাইন প্রযুক্তি এবং একাধিক ক্যামেরার সাহায্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এখন অনেক বেশি নির্ভুলভাবে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে প্রযুক্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধান রেফারিকেই নিতে হয়। তাই ফাইনালের সবচেয়ে কঠিন দায়িত্বটি এখনও মাঠের রেফারির কাঁধেই থাকে। সেই দায়িত্ব এবার পালন করবেন স্লাভকো ভিনচিচ।
আর্জেন্টিনা এবং স্পেন—দুই দলই এই ফাইনালে পৌঁছেছে অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে। একদিকে আর্জেন্টিনা চাইবে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখতে, অন্যদিকে স্পেন চাইবে নতুন প্রজন্মকে সামনে রেখে আবারও বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করতে। দুই দলের খেলার ধরনও একেবারে ভিন্ন। আর্জেন্টিনা সাধারণত কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ, অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তার ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে স্পেন দ্রুতগতির আক্রমণ, বলের দখল ধরে রাখা এবং তরুণ ফুটবলারদের সৃজনশীল ফুটবলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। এমন দুই ভিন্ন দর্শনের দলের লড়াই পরিচালনা করা যেকোনো রেফারির জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ।
ফাইনালে ভিনচিচের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ম্যাচের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা। বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ অনেক বেশি থাকে। ছোট একটি ফাউল কিংবা একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে কখন খেলোয়াড়দের সতর্ক করতে হবে, কখন হলুদ কার্ড দেখাতে হবে, আবার কখন খেলাকে চলতে দিতে হবে—এসব সিদ্ধান্তই একজন রেফারির দক্ষতার প্রকৃত পরীক্ষা নেয়। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, ভিনচিচ সাধারণত অযথা খেলা থামানোর পক্ষে নন। তিনি চেষ্টা করেন খেলার স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে এবং প্রয়োজনীয় মুহূর্তেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ফাইনাল শুধু দুই দলের জন্য নয়, বিশ্ব ফুটবলের জন্যও একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকবে। কয়েক কোটি দর্শক টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ম্যাচটি সরাসরি উপভোগ করবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যম, ফুটবল বিশ্লেষক এবং সাবেক খেলোয়াড়দের নজর থাকবে প্রতিটি মুহূর্তের দিকে। এমন একটি বৈশ্বিক আয়োজনের কেন্দ্রে থাকবেন স্লাভকো ভিনচিচ। তাঁর প্রতিটি বাঁশি, প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি ইঙ্গিত কোটি কোটি মানুষ মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্লেষণ করবেন। তাই মাঠে নামার আগেই তিনি জানেন, এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং তাঁর পুরো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
ফিফার প্রধান রেফারি কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা একাধিকবার বলেছেন, একজন রেফারির সবচেয়ে বড় অর্জন তখনই, যখন ম্যাচ শেষে তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে নয়, ম্যাচের সৌন্দর্য এবং জয়ী দল নিয়ে আলোচনা হয়। সেই দর্শনকেই নিজের কাজের মূলনীতি হিসেবে অনুসরণ করেন স্লাভকো ভিনচিচ। তিনি কখনও অযথা আলোচনায় আসতে চান না। বরং নিয়মের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে খেলাকে সুন্দরভাবে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়াকেই নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই পেশাদার মনোভাবই তাঁকে বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য রেফারির মর্যাদা এনে দিয়েছে।
আগামী রোববার যখন ফাইনালের উদ্বোধনী বাঁশি বাজবে, তখন সেটি শুধু আর্জেন্টিনা ও স্পেনের বিশ্বকাপ শিরোপার লড়াইয়ের সূচনা করবে না, একই সঙ্গে শুরু হবে স্লাভকো ভিনচিচের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নব্বই মিনিটেরও। এই ম্যাচ সফলভাবে পরিচালনা করতে পারলে তিনি শুধু একজন সফল আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবেই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ কর্মকর্তাদের একজন হিসেবেও নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে রাখবেন। আর যদি ম্যাচটি বিতর্কমুক্তভাবে শেষ হয়, তবে সেটিই হবে তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য। কারণ একজন রেফারির প্রকৃত বিজয় তখনই, যখন ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ফুটবল, রেফারি নন। সেই লক্ষ্য নিয়েই ইতিহাসের সাক্ষী হতে প্রস্তুত স্লোভেনিয়ার অভিজ্ঞ এই ম্যাচ কর্মকর্তা।











