চট্টগ্রামে টানা অতি ভারী বর্ষণে নগরজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। মৌসুমি বায়ুর তীব্র প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, সম্প্রতি তৈরি হওয়া মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাব যুক্ত হওয়ায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেড়েছে। যদিও নিম্নচাপটি এখন ভারতের ঝাড়খণ্ড ও ওডিশা এলাকায় সরে গেছে, তবু সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে আগামী অন্তত এক সপ্তাহ বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই ৩৩০.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে; এর মধ্যে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে, যার প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
এই অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরের বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া, চান্দগাঁও, চকবাজারের তেলেপট্টি গলি, কাট্টলীর ঈশান মহাজন সড়ক, হালিশহরের কে ও এল ব্লকের সোনালি আবাসিক, বসুন্ধরা আবাসিক, রামপুর, আনন্দীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জে হাঁটুপানি রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তাঘাটে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। গাছ ভেঙে পড়েছে ঈশান মহাজন সড়কে, ফলে সড়কটিতে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। আগ্রাবাদ এলাকায় অফিস করতে আসা জোবায়ের হোসেন নামের এক চাকরিজীবী জানান, সকাল থেকে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় অফিসে ঢুকতে বেগ পেতে হয়েছে। ফরিদার পাড়ার বাসিন্দা ইফতেখার উদ্দিন জানান, সকালবেলায় পানি জমে থাকার কারণে ঘর থেকে বের হতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। প্রবল বর্ষণ এবং জোয়ারের পানির কারণে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমেছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা জানান, দুই দিন ধরে ভারী বর্ষণ হচ্ছে এবং আজ সকালে জোয়ার যুক্ত হওয়ায় এসব এলাকায় পানি জমেছে। তবে নালা ও খাল পরিষ্কার থাকায় পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। নগরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, দুই নম্বর গেট এলাকায় পানি ওঠার খবর পাননি তিনি।
টানা বৃষ্টির মধ্যেই চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় একটি সড়ক ভেঙে গেছে। উড়ালসড়ক নির্মাণের জন্য ওই বাইপাস সড়কটি তৈরি করা হয়েছিল। ভারী বৃষ্টিতে গতকাল রাতে সড়কটি ভেঙে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল। তিনি জানান, পতেঙ্গায় আউটার রিং রোডের সঙ্গে একটি উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ চলছে, এ জন্য একটি বাইপাস সড়ক করা হয়েছিল যা ভেঙে গেছে। তবে এখন তা মেরামত করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন আজ সকালে নগরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ পরিদর্শনের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি। কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা পরিদর্শনের সময় মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি এখনো থামেনি। এর মধ্যে যেসব এলাকায় পানি জমেছে সেখানে খালের কাজ চলছে, বিশেষ করে হিজড়া খাল, জামাল খান খাল, আজব বাহার খাল ও গুলজার খালে। সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কাজ করছে। তিনি জানান, এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে এবং তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কাতালগঞ্জ নিচু এলাকা হওয়ায় পানি জমছে, তবে বৃষ্টি থামলে এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যাবে। মেয়র আরও জানান, জলাবদ্ধতা প্রবণ প্রবর্তক মোড়, বহদ্দারহাট, বাকলিয়া, চকবাজার ও মুরাদপুর এলাকায় পানি ওঠেনি। প্রণব কুমার শর্মা জানান, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ৮ থেকে ১০ বছর ধরে চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে এবং গত মার্চ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন হয়নি।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে আজ নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা আজ স্থগিত করা হয়। সিটি করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী আজকের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে নেওয়া হবে। নগরের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের আকাশে সূর্যের দেখা মিলছে খুব কম। পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বেড়েছে ধসের শঙ্কা। টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পাহাড়ধস নিয়ে। ভারী বর্ষণের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও উপকূলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। নগরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। গত সোমবার সকাল থেকে আকবর শাহ, বিজয়নগর, শান্তিনগর, বেলতলীঘোনা, টাংকির পাহাড়, মতিঝরনা, পাহাড়িকা, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, উত্তর হালিশহর সমুদ্রপাড় ও বাকলিয়া নদীতীরসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। ছয়জন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের নদীগুলোর পানি বেড়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। শহরে পানি আটকে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হবে। যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে অত পানি দ্রুত নামা খুব কঠিন। এছাড়া জোয়ারের সময় পানি সাগরে নামতে পারে না, ভাটার সময় নামবে। আগামী কয়েকদিন থেমে থেমে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম নগরীতে টানা অতি ভারী বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকার সড়কে হাঁটুপানি থেকে কোমরসমান পানি জমে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে বহু দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল, কর্ণফুলীর জোয়ার মিলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলাবদ্ধ এলাকার সংখ্যা বাড়ছে। নগরের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে বৃষ্টির পানির সঙ্গে পাহাড় ধোয়া মাটি নেমে আসতে দেখা গেছে। এমতাবস্থায় নগরের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া, চান্দগাঁও, চকবাজারের তেলেপট্টি গলি, কাট্টলীর ঈশান মহাজন সড়ক, হালিশহরের কে ও এল ব্লকের সোনালি আবাসিক, রামপুর, আনন্দীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জে হাঁটুপানি রয়েছে। গাছ ভেঙে পড়েছে ঈশান মহাজন সড়কে। গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে সড়কটিতে। জোবায়ের হোসেন নামের এক চাকরিজীবী জানান, তাদের অফিস আগ্রাবাদ এলাকায়। কিন্তু সেখানে সকাল থেকে হাঁটুসমান পানি জমেছে। পানির কারণে অফিসে ঢুকতে বেগ পেতে হয়েছে। কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ফরহান বলেন, সকালে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে বাসা থেকে বের হতে হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, নগরের কয়েকটি এলাকায় পানি জমে থাকার খবর পেয়েছেন। দুই দিন ধরে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। আজ সকালে জোয়ারও যুক্ত হয়েছে। এ কারণে এসব এলাকায় পানি জমেছে। নালা ও খাল পরিষ্কার থাকায় পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। তবে নগরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ বেশ কিছু এলাকায়, যেমন মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, দুই নম্বর গেট এলাকায় পানি ওঠার খবর পাননি।
চট্টগ্রাম পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, রোববার রাত থেকেই মাঠপর্যায়ে মাইকিং করে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারী পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
চট্টগ্রামে মৌসুমের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরো পাঁচ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পতেঙ্গা কেন্দ্র জানায় মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘন্টায় ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি সোমবার অতি ভারি বর্ষণের রূপ নেয়। সোমবার দিনভর বৃষ্টির পর রাতেও চলে মুষলধারে। সেদিন সন্ধ্যার পর নগরীর দুয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাতভর টানা ভারি বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকালেও বৃষ্টির ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, চকবাজার, হালিশহর কে ও এল ব্লক, রামপুর, তিন পোলের মাথা, বাটালি রোড, আরাকান সড়কের মৌলভী পুকুর পাড়, সিঅ্যান্ডবি এলাকাসহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলাবদ্ধ এলাকার সংখ্যা বাড়ছে। নগরের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে বৃষ্টির পানির সঙ্গে পাহাড় ধোয়া মাটি নেমে আসতে দেখা গেছে।
চট্টগ্রামের আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্রের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "চলতি মৌসুমে এটা ২৪ ঘণ্টার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। গত কয়েক বছরের মধ্যেও এটি সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত। নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।" এর ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের নদীগুলোর পানি বেড়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। শহরে পানি আটকে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হবে। যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে অত পানি দ্রুত নামা খুব কঠিন। এছাড়া জোয়ারের সময় পানি সাগরে নামতে পারে না। ভাটার সময় নামবে। আগামী কয়েকদিন থেমে থেমে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকবে।
ছবিতে চট্টগ্রামে বিভিন্ন এলাকা দেখানো হয়েছে। যান চলাচল অসুবিধা আর নোংরা পানিতে জনগণের অস্থিরতা আর স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা থাকা সত্ত্বেও অফিস- স্কুল কলেজ খোলা থাকায় বাধ্যতামূলক যাওয়া লাগতেছে। এখন স্কুলের ষান্মামাসিক পরীক্ষা চলার শত বাদা বিপত্তি পেরিয়ে স্কুলে যাওয়া লাগতেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। প্রবল বর্ষণ এবং উত্তাল সমুদ্রের কারণে বন্দরের বাইরের নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রিফায়েত হামিম জানান, উত্তাল সমুদ্রের কারণে ৪৩টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সতর্কসংকেত ৩ নম্বরের নিচে নামলে বন্দরের কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। তবে বন্দরের কন্টেইনার টার্মিনালগুলোতে পণ্য হ্যান্ডলিং চলছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বান্ধব দুটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ঢাকায় ডাইভার্ট করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, তারা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢাল থেকে ৩০টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন এবং আরও বেশি মানুষকে নিরাপদে সরানোর কাজ চলছে। তাদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং লাউডস্পিকারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নগরের ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে বসবাসরত প্রায় ৬ হাজার ৫৫৫ জন লোককে ভূমিধসের আশঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।