২০২৪ সালের জুলাই মাস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পতনের মধ্য দিয়ে যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়, তার ভিত্তি রচিত হয়েছিল অগণিত তরুণের রক্তের বিনিময়ে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি এসে সেই রক্তাক্ত জুলাইয়ের শহীদ পরিবারগুলো আজও এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে তারা রাষ্ট্রীয় সম্মান ও আর্থিক সাহায্যের কিছুটা আলো দেখতে পাচ্ছেন, অন্যদিকে বিচারহীনতা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার অন্ধকার এখনো কাটেনি। এই নিবন্ধে জুলাই শহীদ পরিবারগুলোর বর্তমান অবস্থা, তাদের দাবি-আকাঙ্ক্ষা, সরকারি পুনর্বাসনের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের করণীয় সম্পর্কে বিশদ আলোকপাত করা হবে।
## শহীদ পরিবারের সংগঠন: অধিকার আদায়ের নতুন অধ্যায়
শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের অধিকার ও দাবি আদায়ে এখন সংগঠিত হচ্ছেন। ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার অ্যাসোসিয়েশন’-এর মতো সংগঠনগুলো তাদের কণ্ঠস্বরকে শক্তি দিচ্ছে।
‘জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার অ্যাসোসিয়েশন’ নামের একটি সংগঠন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মপ্রকাশ করে। শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়াকে সভাপতি এবং শহীদ ইয়ামিনের পিতা মহি উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয় । এই সংগঠনটি শহীদ পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরছে এবং জাতীয় পর্যায়ে তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
এছাড়াও, ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ নিয়মিতভাবে সংবাদ সম্মেলন ও সমাবেশের মাধ্যমে শহীদদের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি বগুড়ায় জাতীয় পার্টির কার্যালয় দখলের ঘটনায় জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে এই ঘটনার সাথে কোনো শহীদ পরিবারের সদস্য জড়িত নয় এবং এটি একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য। এই সংগঠনগুলো শহীদ পরিবারগুলোর জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখান থেকে তারা তাদের বেদনা ও দাবি তুলে ধরতে পারেন।
## বিচারের দাবি: ক্ষোভ, হতাশা ও প্রত্যাশা
শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রধান দাবি হলো জুলাই গণহত্যার দৃশ্যমান ও সুষ্ঠু বিচার। ২০২৬ সালের ৪ জুলাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ শহীদ পরিবারের সদস্যরা এই দাবি তীব্রভাবে তুলে ধরেন ।
শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার ভাই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন এবং তার অনুপ্রেরণায় আরও অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। তিনি দ্রুত বিচার ও শহীদ পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তার দাবি জানান । চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, তার ছেলে আর ফিরে আসবে না, তবে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাবা-মাকে এমন শোক বয়ে বেড়াতে না হয়। তিনি আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সহায়তার আহ্বান জানান ।
শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা আরও কষ্টকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, বড় ছেলে নিহত হওয়ার পর ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। সে সময় নানা জায়গায় সহযোগিতা চাইলেও সহায়তা পাননি। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি । তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করেও তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। তার প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে সব শহীদ পরিবারও একই ধরনের সহায়তা পাবে এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে ।
শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন যে বিচারের দাবিতে আন্দোলন করলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। তারা উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং তাদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানাচ্ছেন । জুলাই জাতীয় সম্মেলনে শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব মিয়া জুলাই স্মৃতিফলক সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু জুলাই নয়, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যারও বিচার করতে হবে । তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই শহীদদের কবরের নামফলক তৈরির জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে ।
## রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও বাস্তবতা
জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়; এটি জনগণের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফসল । তিনি জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করবে এবং আইন অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে অঙ্গীকার করেন । তবে বিচারের নামে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি ।
অন্যদিকে, শহীদ পরিবারের সদস্যরা বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ। সম্মেলনে নিহত ১৫ বছর বয়সী আলভীর বাবা আবুল হাসান বলেন, সন্তানের বিচারের জন্য তারা আন্দোলন করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচারের নামে একধরনের প্রতারণা করেছে। এখন তারা বর্তমান সরকারের কাছে একটি দৃশ্যমান ও সুষ্ঠু বিচারের প্রত্যাশা করছেন । শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিক আলম বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তারা আদৌ সন্তান হত্যার বিচার পাবেন কি না, তা জানেন না ।
## জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন: পুনর্বাসনের মূল কারিগর
শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’। ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে ৭ সদস্যের কার্যনির্বাহী পরিষদ নিয়ে ফাউন্ডেশনটি গঠিত হয় । বর্তমানে ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।
ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাদের সম্মানজনক ও টেকসই পুনর্বাসনের জন্য আরও বিপুল তহবিল প্রয়োজন । তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, শারীরিক অক্ষমতা এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মতো নানা সংকটে পড়েছেন ।
এ পর্যন্ত ফাউন্ডেশন মোট ১১৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা তহবিল সংগ্রহ করেছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ১১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে । এর মধ্যে ৮২৯টি শহীদ পরিবার পেয়েছে ৪১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং ৬ হাজার ৪৭১ জন আহত জুলাই যোদ্ধা পেয়েছেন ৭৪ কোটি ২১ লাখ টাকা । তবে এখনও হাজারো আহত যোদ্ধা সহায়তার বাইরে রয়ে গেছেন। বর্তমানে ৮ হাজার ৬৪৮ জন আহত জুলাই যোদ্ধা আর্থিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন, যাদের সহায়তার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২৩৭ কোটি ৪ লাখ টাকা ।
ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে ৭৪ জন আহত যোদ্ধার টেকসই পুনর্বাসন সম্পন্ন করেছে । এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৮২ জন আহত যোদ্ধা পুনর্বাসনের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ প্রশিক্ষণ, ২০ শতাংশ চাকরি এবং ৫৪ শতাংশ স্বনির্ভর কর্মসংস্থানে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ।
## আর্থিক সহায়তা: সরকারি উদ্যোগ ও বাস্তবতা
সরকার ঘোষিত প্যাকেজ অনুযায়ী, প্রতিটি শহীদ পরিবার এককালীন ৩০ লাখ টাকা এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবে। শহীদ পরিবারের কর্মক্ষম সদস্যরা সরকারি ও আধা সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার পাবেন। আহত ব্যক্তিরা ক্যাটাগরি অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা, অঙ্গহানির জন্য এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা, চিকিৎসা সহায়তা, চাকরিতে অগ্রাধিকার এবং পুনর্বাসন সুবিধা পাবেন।
তবে শহীদ পরিবারের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছায়নি। ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, ছোট ছেলের ক্যান্সারের সময় নানা জায়গায় সহযোগিতা চাইলেও সহায়তা পাননি । জুলাই জাতীয় সম্মেলনে আহত যোদ্ধারাও নিজেদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। ছাত্রদল কর্মী ও জুলাই যোদ্ধা মিল্লাত হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের আগে পর্যন্ত তারা বিএনপি কর্মীরা কেউ পরিপূর্ণ চিকিৎসা পাননি। তারা ছাত্রদলের কর্মী হওয়ায়, ভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের কারণে তাদের গেজেটে নাম ওঠানো বা মূল্যায়ন করা হয়নি ।
## তালিকা নিয়ে বিতর্ক
শহীদের তালিকা নিয়ে বিতর্কও নতুন নয়। ৮৩৬ জনের নাম সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে । তবে অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলনে অংশ না নেওয়া অনেকের নাম তালিকায় রয়েছে। সরকার প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন । তবে অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ফারুক ই আজম জানান, তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে কারা জুলাই যোদ্ধা বা শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ।
## জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন: দীর্ঘ পথচলা
শহীদ পরিবারের পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ৮ হাজার ৬৪৮ জন আহত জুলাই যোদ্ধা আর্থিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন । তাদের অনেকেই এখনো চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের অভাবে ভুগছেন। ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে পুনর্বাসনের জন্য ফরম প্রকাশ করেছে এবং আহত যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান শহীদ পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের ৭০ শতাংশই ছিলেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তবু জাতির জন্য জীবন দিতে তারা দ্বিধাবোধ করেননি। এখন তাদের পরিবারের দায়িত্ব দেশবাসীকে বিশেষ করে সরকারকে নিতে হবে । তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের ‘জুলাই সনদ’ দাবির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এটি শুধু তাদের নয়, দেশের ১৮ কোটি জনগণের মুক্তির সনদ ।
## সামনের পথ: করণীয় ও প্রত্যাশা
জুলাই শহীদ পরিবারগুলোর সামনে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি। বিচারের প্রক্রিয়া, আর্থিক সহায়তার সুষ্ঠু বিতরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। শহীদ পরিবারের সদস্যরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত না হলে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার প্রকৃত অবসান সম্ভব নয় ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিচারের নামে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন । অন্যদিকে, শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে মানবিক রাজনীতির কথা বলেছেন । তাদের মূল প্রত্যাশা হলো একটি কলঙ্কমুক্ত সমাজ, যেখানে কোনো পরিবারকে সন্তান হারানোর বেদনা সইতে হবে না।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান যেমন বলেছেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা কারও কাছে ভিক্ষা চান না। তারা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চান । সেই সম্মান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্য।
## উপসংহার
জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় টিকিয়ে রাখতে শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা অপরিসীম। বিচারহীনতা ও আর্থিক সঙ্কট দূর করে তাদের যথাযথ সম্মান ও সহায়তা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।
শহীদ পরিবারের সদস্যরা বারবার বলেছেন, তারা বিচার চান, ন্যায় চান। দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে, কিন্তু শহীদদের পরিবার যেন আর্থিক ও মানসিকভাবে অসহায় না থাকে—সেটা নিশ্চিত করাই এখন রাষ্ট্রের প্রধান চ্যালেঞ্জ। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকার পুনর্বাসনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা আরও ত্বরান্বিত করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, যাতে শহীদদের আত্মত্যাগ অর্থহীন না হয় এবং আগামী প্রজন্ম জানে যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রোষ্টমুখী হওয়ার মূল্য রয়েছে, কিন্তু সেই মূল্য কখনো বিস্মৃত হয় না।