বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) হিসাব শাখায় কর্মরত তিন পুলিশ কনস্টেবল ভুয়া বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯৮৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসার পর তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) আব্দুল হান্নান। তিনি জানান, বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন কনস্টেবল মারুফ হাসান, জয়দেব কুমার মজুমদার এবং সজীব মিয়া। তারা সবাই বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের হিসাব শাখায় দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশের জারি করা অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত তিন কনস্টেবল ভুয়া বিল প্রস্তুত করে সরকারি তহবিল থেকে ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯৮৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা এই অর্থ আত্মসাতের জন্য অন্য এক কর্মকর্তার সরকারি আইডি ব্যবহার করেছেন, যা প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের একটি গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর বিএমপি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তদন্ত চলাকালে যাতে অভিযুক্তরা প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে না পারেন, সে কারণেই তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল হান্নান বলেন, বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হিসাব শাখার আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনার সময় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর অভ্যন্তরীণভাবে নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তদন্তে আত্মসাতের পুরো প্রক্রিয়া, অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তদন্তের ভিত্তিতে আরও প্রশাসনিক কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে নিয়মিত আর্থিক নিরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এই ঘটনায় সেই নিরীক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ কিংবা দুর্নীতির অভিযোগে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হতে পারে।







