ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বুধবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কোনো ইতিবাচক ফল আসবে বলে তিনি মনে করেন না।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালিতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি জাহাজে হামলার পর তেহরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে ইরান বাহরাইন ও কাতারে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর দাবি করে। এতে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
এর আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরবর্তীতে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।
তেহরান ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী নৌযানকে তাদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় বিকল্প পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করে দেশটি।
সাম্প্রতিক সময়ে ওই প্রণালিতে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান চালায়। এর পরদিন ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, "আমি যতদূর জানি, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে দরকষাকষি করা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের মধ্যস্থতাকারীরা যদি আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়, আমার আপত্তি নেই। তবে আমি সেখানে কোনো বাস্তব সাফল্যের সম্ভাবনা দেখি না।"
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই নৌপথ ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলের যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও দ্রুত প্রতিফলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।











