বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সিরিজের স্কোয়াডে খুব বড় বিস্ফোরণ নেই; আছে ছোট ছোট সংকেত। কিন্তু স্কোয়াড ঘোষণার পরদিনই যখন পেস বোলিং কোচ শন টেইট বিদায় নেন, তখন শান্ত জলের নিচের স্রোতটা চোখে পড়ে।
আইসিসির তথ্য অনুযায়ী, ৯, ১১ ও ১৪ জুন ঢাকায় তিনটি ওয়ানডে; তারপর ১৭, ১৯ ও ২১ জুন চট্টগ্রামে তিনটি টি-টোয়েন্টি। প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ঘোষিত দলে মেহেদী হাসান মিরাজ অধিনায়ক, এবং নিউজিল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারানো স্কোয়াড থেকে ১৩ জন ধরে রাখা হয়েছে। ফিরেছেন মোসাদ্দেক হোসেন, প্রায় চার বছর পর; ফিরেছেন নুরুল হাসানও। বাদ পড়েছেন আফিফ হোসেন ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। এই নির্বাচনে বোঝা যায়, বাংলাদেশ আবেগ নয়, ব্যবহারিকতা খুঁজছে—বিশেষ করে মিডল অর্ডারে নমনীয় ব্যাটিং আর ছয় নম্বরে কার্যকর অলরাউন্ড অপশন।
মোসাদ্দেকের ক্ষেত্রে যুক্তিটা সংখ্যাতেও শক্ত। প্রথম আলোর তথ্য বলছে, এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ছয় ইনিংসে ৩১০ রান, গড় ৭৭.৫০, স্ট্রাইক রেট ১২৯.১৭। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারও বলেছেন, ছয় নম্বরে তাঁর স্কিল বেশি কাজে লাগতে পারে। একই সময়ে পেস আক্রমণেও চোখ আটকে থাকে—তাসকিন, মোস্তাফিজ, শরীফুল, নাহিদ রানা। আইসিসি মনে করিয়ে দিয়েছে, নিউজিল্যান্ড সিরিজে নাহিদ নিয়েছিলেন ৮ উইকেট, যার মধ্যে ছিল তাঁর দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট। সুতরাং বাংলাদেশের বর্তমান একাদশ-ভাবনায় স্পিন, স্লোয়ার বল, নতুন বল, এবং দেরিতে আঘাত—সব একসঙ্গে আছে।
কিন্তু এই স্থিতির ভেতরেই এল ভাঙন। ৪ জুন বিসিবি নিশ্চিত করেছে, ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি থাকা সত্ত্বেও শন টেইট পারিবারিক কারণ দেখিয়ে সরে যাচ্ছেন; অস্ট্রেলিয়া সিরিজে দায়িত্ব নেবেন তালহা জুবায়ের। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে স্কোরবোর্ডে ধরা পড়বে না, কিন্তু ড্রেসিংরুমের ভাষা বদলে দিতে পারে। কারণ বড় সিরিজের আগে পরিকল্পনা যতটা টেকনিক্যাল, ততটাই মানসিক। এই দল দেখে অনুমান করা যায়, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে “বড় নাম” নয়, “বড় স্পেল” ও “বড় ওভার”–এর লড়াই খেলতে চাইছে। আর মিরপুরে জিততে হলে এটাই সঠিক রাস্তা—ম্যাচকে ছোট ছোট পরিসরে ভেঙে ফেলা।








