# উত্তর আমেরিকায় ‘মানুষের বাগান’-এর আরেকটি বড় স্বীকৃতি
বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘মানুষের বাগান’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এনএবিসি উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলনে চলচ্চিত্রটি সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনীর পর প্রবাসী বাঙালি দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। আজ বুধবার নির্মাতা নূরুল আলম আতিক গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে হাজারো প্রবাসী বাঙালি অংশগ্রহণ করেন। আয়োজনজুড়ে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত, নাটক এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘মানুষের বাগান’-এর প্রদর্শনী। বড় পর্দায় চলচ্চিত্রটি উপভোগ করেন দর্শকরা। এ সময় বাংলা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ভূমিকারও প্রশংসা করেন অতিথিরা। উল্লেখ্য, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটক নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে এবং এটি বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সুপরিচিত ।
**পাঁচটি ভিন্ন গল্পের সমন্বয়ে ‘মানুষের বাগান’**
চলচ্চিত্রটির নির্মাতা নূরুল আলম আতিক জানান, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সম্পর্কের পাঁচটি ভিন্ন গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘মানুষের বাগান’। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে হাজারো প্রবাসী বাঙালির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বঙ্গ সম্মেলনে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নানা আয়োজনে তুলে ধরা হয়েছে। সংগীত, নাটক, নৃত্য, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
**আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পূর্ববর্তী সাফল্য**
এটি অবশ্য ‘মানুষের বাগান’-এর প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়। এর আগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছিল। বাংলাদেশের হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার প্রীতি রহমান। চলতি বছরের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়া ‘মানুষের বাগান’ শুধু চলচ্চিত্র হিসেবেই নয়, পরিচালক নূরুল আলম আতিকের লেখা একটি বই হিসেবেও প্রকাশিত হয়েছে।
**‘মানুষের বাগান’-এর শিল্পীবৃন্দ**
‘মানুষের বাগান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, প্রসূন আজাদ, মুনিরা মিঠু, দিপান্বিতা মার্টি প্রমুখ। চলচ্চিত্রটির শিরোনাম সংগীত গেয়েছে জনপ্রিয় ব্যান্ড চিরকুট। নির্মাতা নূরুল আলম আতিকের দক্ষ পরিচালনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ইতিমধ্যেই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
**প্রবাসী বাঙালিদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ**
প্রবাসী বাঙালি দর্শকদের জন্য ‘মানুষের বাগান’ একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলা চলচ্চিত্রের বিশ্বায়নে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সম্মেলনের অতিথিরা। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত প্রবাসীরা এই চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আবারও সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক বাংলা চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক পরিসরে স্থান করে নেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয়ের এই ধারাবাহিকতা বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
# উত্তর আমেরিকায় সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘মানুষের বাগান’
নিউইয়র্কের ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এনএবিসি উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলনে এই পুরস্কার অর্জন করে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত চলচ্চিত্রটি। সম্মেলনের চলচ্চিত্র উৎসব অংশে ‘মানুষের বাগান’-এর বিশেষ প্রদর্শনী হয়। প্রবাসী বাঙালি দর্শকরা বড় পর্দায় চলচ্চিত্রটি উপভোগ করেন এবং এটি দর্শক ও সমালোচকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। নির্মাতা নূরুল আলম আতিক গণমাধ্যমকে জানান, এই স্বীকৃতি বাংলা চলচ্চিত্রের বিশ্বায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ সময় উপস্থিত অতিথিরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা চলচ্চিত্রকে তুলে ধরতে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ভূমিকার প্রশংসা করেন। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন মাধ্যমে নাটক, ধারাবাহিক, টেলিফিল্ম, মিউজিক ভিডিও ও ডকুমেন্টারি নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে এবং বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সুপরিচিত ।
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সম্পর্কের পাঁচটি ভিন্ন গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘মানুষের বাগান’। এটি পরিচালক নূরুল আলম আতিকের লেখা একটি বই হিসেবেও প্রকাশিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, প্রসূন আজাদ, মুনিরা মিঠু, দিপান্বিতা মার্টি প্রমুখ। শিরোনাম সংগীতটি গেয়েছে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘চিরকুট’।
উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে হাজারো প্রবাসী বাঙালির অংশগ্রহণে এনএবিসি উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত, নাটক, নৃত্য, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাঙালিরা তাঁদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উদযাপন করেন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই সম্মেলন প্রবাসী বাঙালি সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত।
এটি ‘মানুষের বাগান’-এর প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়। এর আগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছিল চলচ্চিত্রটি। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার প্রীতি রহমান। চলতি বছরের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশে দর্শক ও সমালোচকদের নজর কেড়েছে।
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত এবং নূরুল আলম আতিক পরিচালিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মানুষের বাগান’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য এক অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এনএবিসি উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলনে সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি তার সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। এর আগে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সামাজিক আখ্যানের জন্য সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করেছিল ‘মানুষের বাগান’, যা এ বছর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সম্পর্কের পাঁচটি ভিন্ন গল্পের সমন্বয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটির কাহিনি। এই পাঁচটি আন্তঃসম্পর্কিত গল্পের মাধ্যমে নির্মাতা সমাজের জটিলতা ও বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন, যা দর্শকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। নির্মাতা নূরুল আলম আতিক গণমাধ্যমকে জানান, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনকাহিনি নিয়েই এগিয়েছে ‘মানুষের বাগান’-এর গল্প।
শুধু চলচ্চিত্র হিসেবেই নয়, ‘মানুষের বাগান’ পরিচালক নূরুল আলম আতিকের লেখা একটি বই হিসেবেও প্রকাশিত হয়েছে, যা এই কাজটির সাহিত্যিক ও শৈল্পিক গভীরতাকে আরও তুলে ধরে। চলচ্চিত্রটির শিরোনাম সংগীত গেয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড চিরকুট, যা সিনেমাটির আবেদনকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গানটির কথা লিখেছেন নাহিদুর রহমান আনন্দ, যিনি এর আগে আতিকের টেলিভিশন সিরিজ ‘জাদুর শহর’-এর শিরোনাম গানের কথা লিখেছিলেন।
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, প্রসূন আজাদ, মুনিরা মিঠু, দিপান্বিতা মার্টি, স্বাগতা, মাহমুদ আলম ও মনোজ কুমারের মতো খ্যাতিমান শিল্পীরা। এই সম্মিলিত অভিনয়শিল্পীরা বহুস্তরীয় আখ্যানকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি বাংলা চলচ্চিত্রের বিশ্বায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় আয়োজনের অতিথিরা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির প্রশংসা করেন। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ইমপ্রেস টেলিফিল্ম বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নির্মাণশিল্পে দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য পরিচিত এবং এটি বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত ।
২০২৬ সালের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পায় ‘মানুষের বাগান’, যা মুক্তির পথ প্রশস্ত করে। যদিও ২০১৮ সালে চলচ্চিত্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল এবং শুটিং শেষ হয়েছিল অনেক আগেই, তবে বিভিন্ন কারণে এর মুক্তি বিলম্বিত হয়েছিল। নির্মাতার মতে, চলচ্চিত্রটি শিগগিরই বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘আইস্ক্রিন’-এ মুক্তি পাবে বলে আশা করা যায়।
এনএবিসি উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলন ছিল একটি চার দিনব্যাপী আয়োজন, যেখানে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে হাজারো প্রবাসী বাঙালি অংশগ্রহণ করেন। এই সম্মেলনে সংগীত, নাটক, নৃত্য ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি উদযাপন করা হয়। ‘মানুষের বাগান’-এর প্রদর্শনী ছিল এই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। প্রবাসী বাঙালি দর্শকরা বড় পর্দায় চলচ্চিত্রটি উপভোগ করেন এবং এটি ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে।
নতুন দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার গ্রহণ করেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার প্রীতি রহমান। দিল্লি উৎসবে ‘মানুষের বাগান’-এর পাশাপাশি ইমপ্রেস টেলিফিল্মের আরেকটি চলচ্চিত্র ‘নীলপদ্ম’ও প্রদর্শিত হয়েছিল। এই উভয় চলচ্চিত্রই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাণের মান ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তার গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দেয়।
‘মানুষের বাগান’-এর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধু একটি চলচ্চিত্রের সাফল্য নয়, বরং এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দেয়। নিউইয়র্ক ও দিল্লি উভয় স্থানেই পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি প্রমাণ করেছে যে, গভীর মানবিক গল্প ও শৈল্পিক নির্মাণশৈলী ভাষা ও সীমান্ত অতিক্রম করে দর্শকদের হৃদয়ে পৌঁছাতে পারে।