কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছেন ডানপন্থী রাজনৈতিক নেতা লরা ফার্নান্দেজ। কোকেন বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ক্রমবর্ধমান সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি এই বিজয় অর্জন করেন।
রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, মধ্য-ডানপন্থী অর্থনীতিবিদ আল্ভেরো রামোস পরাজয় স্বীকার করেন। ফলাফলে দেখা যায়, দ্বিতীয় দফার নির্বাচন এড়াতে প্রয়োজনীয় ৪০ শতাংশ ভোটের সীমা অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে ক্ষমতাসীন শিবির।
ভোটকেন্দ্রের ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ ফল গণনা শেষে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগ্রো শ্যাভেজের রাজনৈতিক উত্তরসূরি ফার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে রামোসের প্রাপ্তি ৩৩ দশমিক ০২ শতাংশ।
প্রাথমিক ফল প্রকাশের পরই ফার্নান্দেজের সার্বভৌম পিপলস পার্টির সমর্থকেরা দেশজুড়ে উদযাপনে মেতে ওঠেন। নীল, লাল ও সাদা ডোরা কাটা কোস্টারিকার জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নামেন তাঁরা। অনেকেই ‘ভিভা রদ্রিগো শ্যাভেজ’ স্লোগান দেন—যা ফার্নান্দেজের রাজনৈতিক অভিভাবকের প্রতি ইঙ্গিত করে।
রাজধানী সান হোসেতে দলের আনুষ্ঠানিক নির্বাচন-রাতের অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় ৩৯ বছর বয়সী লরা ফার্নান্দেজ বলেন, প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত হিসেবে তাঁর প্রতি আস্থা রাখার জন্য তিনি রদ্রিগ্রো শ্যাভেজের প্রতি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর উত্তরাধিকার এখন নিরাপদ হাতে রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কোস্টারিকাকে ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাধীনতা এবং সর্বোপরি জনগণের অগ্রগতির পথে’ এগিয়ে নিতে তিনি অক্লান্তভাবে কাজ করবেন।
৫ দশমিক ২ মিলিয়ন জনসংখ্যার কোস্টারিকা দীর্ঘদিন ধরে মধ্য আমেরিকায় স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি বৈশ্বিক মাদক পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক হাবে পরিণত হয়েছে।
মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার মাদক কার্টেলগুলোর তৎপরতায় স্থানীয় সমাজে অপরাধ ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে এলাকা দখলের লড়াই বেড়েছে এবং গত ছয় বছরে হত্যার হার ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি এক লাখে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
অপরাধ দমনে অনুপ্রেরণা হিসেবে ফার্নান্দেজ এল সালভাদরের কঠোরপন্থী প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলের উদাহরণ তুলে ধরেন। যিনি অভিযোগ ছাড়াই হাজার হাজার সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্যকে কারাবন্দি করেছেন।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে অভিনন্দন জানান নায়িব বুকেলেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ফার্নান্দেজের এই জয় লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী রাজনীতির দিকে ঝোঁকার প্রবণতাকে আরো জোরালো করল। দুর্নীতি ও অপরাধ নিয়ে জনঅসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে চিলে, বলিভিয়া, আর্জেন্টিনা ও হন্ডুরাসে রক্ষণশীল শক্তি ক্ষমতায় এসেছে।

