যুদ্ধবিরতি চললেও থামেনি উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি
৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রায় তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা চলছেই।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে সোমবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের উপসাগরীয় উপকূলে চালানো সাম্প্রতিক হামলাগুলো ছিল একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার প্রতিক্রিয়া। সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে উড়তে থাকা ওই ড্রোনটি ইরান গুলি করে নামিয়েছিল।
সেন্টকমের তথ্যমতে, অভিযানে ইরানের একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব ড্রোন ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক ও সামরিক নৌযানের জন্য হুমকি তৈরি করছিল।
অন্যদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে হামলার জন্য ব্যবহৃত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে কোন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, সোমবার দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার একটি প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে। ঘটনার সময় দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তবে হামলার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একাধিকবার হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। গত বৃহস্পতিবারও দুই পক্ষের মধ্যে একই ধরনের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
এদিকে নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দেশে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আনার চাপ বাড়ছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোটারদের অসন্তোষও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সময়ে ইরানের প্রতি নমনীয় অবস্থান নিলে তিনি নিজ দলের কট্টরপন্থী নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন।
শান্তি আলোচনার পথে এখনো বেশ কয়েকটি বড় বাধা রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির অর্থ ফেরত দেওয়া এবং লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর চলমান সংঘাত।



