তেহরানে এখনও সরকার টিকে আছে, যুদ্ধও শেষ হয়নি। কিন্তু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কিছু বয়ান শুনলে মনে হতে পারে, ইরানে ক্ষমতা অন্তত পাঁচবার বদলে গেছে। কখনও ‘বেবি শাহ’ নামে পরিচিত নির্বাসিত রাজপুত্র রেজা শাহ পাহলভির বিজয়ী প্রত্যাবর্তনের গল্প আবার কখনও রহস্যময় উত্তরসূরির উত্থান। এক সময় শোনা যায় মোজতবা খামেনী নিহত তো কখনও সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনা । ইরানকে ঘিরে সংবাদপ্রবাহ যেন বাস্তবতার চেয়ে বেশি নাটকীয়তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কেন?
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এমন এক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে খবরের সঙ্গে অনুমান, বিশ্লেষণের সঙ্গে কল্পনা এবং তথ্যের সঙ্গে রাজনৈতিক বয়ান একাকার হয়ে যাচ্ছে। একদিন বলা হচ্ছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন আসন্ন। পরদিনই নতুন গল্প—কুর্দি বাহিনী সীমান্তে, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ শুরু হতে যাচ্ছে, অথবা কোনো গোপন রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের নাম। যাকে এত দিন পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে কট্টরপন্থী, উগ্র জাতীয়তাবাদী কিংবা অস্থিতিশীল চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হতো, তাঁকেই এখন কোনো কোনো প্রতিবেদনে তুলনামূলক বাস্তববাদী এবং সম্ভাব্য গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অথচ তার অবস্থানে দৃশ্যমান কোনো বড় পরিবর্তনের প্রমাণ সামনে আসেনি।

